1. domain.namebd2020@gmail.com : admi2017 :
বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৪২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
চাঁপাইনবাবগঞ্জে জেলা পুলিশের উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের শীর্ষক কর্মশালা  চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১ম কমিউনিটি পুলিশ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশীপ ফাইনাল খেলা সম্পন্ন  চাঁপাইনবাবগঞ্জে ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিংয়ের ৮ম ব্যাচের কার্যক্রম শুর চাঁপাইনবাবগঞ্জে গ্রাম আদালত কার্যক্রম সম্পর্কে অংশীজনদের সঙ্গে সমন্বয় সভা চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৫৩ বিজিবি’র উদ্যোগে সিমান্তে যুবকদের প্রশিক্ষণের শুভ উদ্বোধন চাঁপাইনবাবগঞ্জে চালকদের পেশাগত দক্ষতা ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে রিফ্রেশার প্রশিক্ষণ চাঁপাইনবাবগঞ্জে নদীতে গোসলে নেমে ৫ শিশুর মৃত্যু চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত  চাঁপাইনবাবগঞ্জে পুনাকের উদ্যোগে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি একরামুল হোসাইন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি নির্বাচিত 

জামানতের শতকোটি টাকা নিয়ে শঙ্কায় ৩৫ হাজার গ্রাহক

  • আপডেট টাইম : শনিবার, ৪ জানুয়ারী, ২০২৫

চাঁপাইনবাবগঞ্জে মধুমতি সমাজ উন্নয়ন সংস্থা নামের একটি অনিবন্ধিত এনজিও মালিক মাসুদ রানা আটকের পর জামানতের ১০৫ কোটি টাকা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন ৩৫ হাজার গ্রাহক। এনিয়ে এখন পর্যন্ত আদালতে ৩৭২টি মামলা হলেও দুই বছর পেরিয়ে গেলেও কোন সুরাহা হয়নি। গ্রাহক ফোরাম জেলা প্রশাসন ও বিচার বিভাগের সাথে সমন্বয় করে জামানতের টাকা ফেরতের প্রক্রিয়া সুষ্ঠভাবে চালিয়ে গেলেও গত ৫ আগষ্ট সরকারের পতনের পর এনিয়ে আগমণ ঘঠেছে তৃতীয় পক্ষের। নানানরকম ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে গ্রাহকদের টাকা ফেরত দিতে।

জানা যায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় ৪৬টি শাখায় ৩৫ হাজার গ্রাহকের ১০৫ কোটি টাকা আত্মসাত করে অবৈধ অস্ত্রসহ পুলিশের হাতে আটক হয় মধুমতি সমাজ উন্নয়ন সংস্থার মালিক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদ রানা। এরপর একে একে টাকা ফেরতের দাবিতে মামলা করেন ভুক্তভোগী গ্রাহকরা। পরে মধুমতি সমাজ উন্নয়ন সংস্থার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও মালিক মাসুদ রানা এবং প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা কমিটির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা মাসুদ রানার পরিবারের ১৮ জন সদস্য কারাগারে থাকলেও টাকা ফেরত পায়নি গ্রাহকরা।

অভিযোগ উঠেছে, সরকারের পতনের পর মাসুদ রানা ও তার পরিবার আত্মসাতকৃত ১০৫ কোটি ফেরত না দিতে নানারকম ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সাথে যোগাযোগ রেখে টালবাহানা শুরু করে। এমনকি যেকোন মূল্যে ৩৭২টি মামলায় জামিন নিয়ে বাইরে আসার পরিকল্পনা করছে তারা। অনুসন্ধানে জানা যায়, টাকা ফেরত না দিতে নানারকম ষড়যন্ত্রের খবরে আরও ১০০০ হাজার মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন ভুক্তভোগী গ্রাহকেরা।

জানা যায়, শনিবার (০৪ জানুয়ারী) দুই পক্ষের আইনজীবী ও মাসুদ রানার প্রতিনিধিরা আইনজীবী সমিতির কার্যালয়ে ৫০টি মামলার বাদি ও গ্রাহকের সাক্ষাৎকার ও তথ্য সংগ্রহ করে। এনিয়ে প্রত্যেক শনিবার মামলার বাদিদের সাক্ষাৎকার ও তথ্য গ্রহণ করে বসে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের কথা জানা যায়। তবে মামলার বাদি ও অন্যান্য গ্রাহকদের অভিযোগ, ৩৭২টি মামলার কার্যক্রম দীর্ঘয়িত করতেই এমন নাটক করা হচ্ছে এবং ষড়যন্ত্রের একটি নতুন কৌশল এটি।

শনিবার (০৪ জানুয়ারী) দুপুরে আইনজীবী সমিতির কার্যালয়ে সাক্ষাৎকার দেয়ার পর মামলার বাদি টুম্পা ভট্টাচার্য জানান, আমি অনেক কষ্টে জমানো টাকা জমা দিয়েছিলাম মধুমতি সমাজ উন্নয়ন সংস্থায়। কিন্তু মালিক মাসুদ রানা আটকের পর তা নিয়ে নাচোল আমলী আদালতে মামলা দায়ের করলেও কোন সুরাহা হয়নি। এখন সাক্ষাৎকারে এসে তার আইনজীবী বলছে কিছু টাকা নিয়ে জামিন দিলে হয়না? কিন্তু এতো হয়রানির পর কেন কম টাকা নিব। এসব ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে গ্রাহকের টাকা নিয়ে।

সদর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়নের শ্রীরামপুর গ্রামের গ্রাহক তরিকুল ইসলাম বলেন, জামানতের টাকা হারিয়ে আমরা এখন পথে বসেছি ৩৫ হাজার গ্রাহক। অথচ আমাদের শতকোটি টাকা নিয়ে জেলে বসে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে মাসুদ রানা ও তার পরিবারের সদস্যরা। মাসুদ রানা ও তার পরিবারের ১৮ জন সদস্য গ্রাহকের এসব টাকা নিয়ে আত্মসাত করার অপরাধে কারাগারে আছে। আমরা গত ২ বছর ধরে ৩৫ হাজার গ্রাহক ঐক্যবদ্ধ রয়েছি। আদালতের নিকট আবেদন, যেভাবেই হোক আমাদেরকে এই টাকা ফেরতের ব্যবস্থা করবেন।

বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল হক জানান, ৩৫ হাজার গ্রাহকের মধ্যে মামলা হয়েছে মাত্র ৩৭২টি। অথচ আইনজীবীরা এখন শুধুমাত্র মামলার বাদিদের সাথে বসছে এবং তাদেরকে টাকা ফেরতের কথা বলে সাক্ষাৎকার নিচ্ছে ও প্রক্রিয়া শুরু করেছে। তাহলে বাকি গ্রাহকরা আমরা কি করব? প্রয়োজনে আমরা ৩৫ হাজার গ্রাহকরা মামলা করব। এসব ষড়যন্ত্র করে টাকা ফেরত দিতে নানারকম টালবাহানা করছে মাসুদ রানার লোকজন।

মধুমতি গ্রাহক ফোরামের সভাপতি শ্রী রমেশ চন্দ্র বলেন, আমরা ৩৫ হাজার গ্রাহক মধুমতি সমাজ উন্নয়ন সংস্থার মালিক মাসুদ রানার সাথে একাধিকবার বৈঠিক করেছি এবং সেসময় মাসুদ রানা ৫০ কোটি টাকা দিতে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু এখন নতুন করে আবার ষড়যন্ত্র ও টালবাহানা শুরু করেছে। আমরা গত ২ বছর ধরে মানববন্ধন, সমাবেশসহ বিভিন্ন আন্দোলন করেছি। প্রয়োজনে আবারো কঠোর আন্দোলনের পাশাপাশি বাকি গ্রাহকরা মামলা করবে।

মধুমতি গ্রাহক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মো. গোলাম মাওলা জানান, মাসুদ গং টাকা ফেরত না দিতে নানারকম টালবাহানা করছে। আমরা গ্রাহকদের শতকোটি টাকা ফেরত নিয়ে শঙ্কায় দিন যাপন করছি। স্থানীয় প্রশাসন, বিচার বিভাগ ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীসহ সকলের নিকট আবেদন, টাকা ফেরত ছাড়া যাতে কোন সীধান্ত না নেয়া হয়। কারন মাসুদ রানার লোকজন আমাদের পাশ বইসহ সকল ডকুমেন্ট নিয়ে নিলে পরবর্তীতে আমােদরকে ফেরত না দেয়াসহ নানারকম বিপদে ফেলতে পারে এই আশঙ্কায় আছি।

সদর উপজেলার কালিনগর গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা নাইমুল হক বলেন, মধুমতি সমাজ উন্নয়ন সংস্থা জেলাজুড়ে ৪৬টি শাখায় অবৈধ ক্ষুদ্র ঋণের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। সাধারণ জনগণকে এক লাখ টাকা জমা রাখলে মাসে ১২০০ টাকা লাভ দেয়া হবে এবং জমাকৃত টাকা চাওয়া মাত্র ফেরত দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে জনগণের কাছ থেকে আমানত সংগ্রহ করে মধুমতি৷ এভাবে জেলার পাঁচ উপজেলায় ৩৫ হাজার গ্রাহকের কাছ থেকে ১০৫ কোটি টাকা সংগ্রহ করে। আজকাল করে টাকা ফেরত দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিভিন্ন কৌশলে সময় পার করে এবং টাকা না দিতে মধুমতি সমাজ উন্নয়ন সংস্থার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদ রানা স্বেচ্ছায় অস্ত্রসহ আটকের নাটক করে৷

সদর উপজেলার নারায়নপুর ইউনিয়নের সূর্যনারায়নপুর গ্রামের স্নাতক পড়ুয়া লতিফা খাতুন বলেন, আমার কোন ভাই নাই। বাবার উপার্জনের ৬ লাখ টাকা মধুমতি এনজিও-তে জমা রেখেছিলাম। কিন্তু বাবা অসুস্থ হওয়ার পরেও এখন চিকিৎসা করার জন্য টাকা উত্তোলন করতে পারছি না। বারবার এনজিও অফিসে ঘুরেও দিব দিচ্ছি বলে না দেয়ার পায়তারা করছে। টাকার জন্য এখন অসহায় দিন যাপন করছি।

জেলা শহরের বিজয় নার্সিং ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী সানজিদা খাতুন জানান, জমি বিক্রি করে টাকা জমা রেখেছিলাম মধুমতি সমাজ উন্নয়ন সংস্থায়। সেখান থেকে মাসে মাসে টাকা তুলে বেতন দিতাম। কিন্তু কয়েকমাস থেকে টাকা আত্মসাত করে পালিয়েছে এর মালিক পক্ষের লোকজন। এখন কলেজের বেতন দিতে পারছি না। জনগণের টাকা নিয়ে যে সমস্ত সম্পদ তৈরি করেছে, তা বিক্রি করে আমাদের টাকা ফেরত দিতে হবে।

M/S Patan Enterprise

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

এ জাতীয় আরো খবর..

Oblique IT Solution

Oblique IT

© All rights reserved © 2025 Vorer Chapai

Theme Customized By BreakingNews